(এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য )
অবিভক্ত ভারতে কলিকাতার শিষ্ট কথ্য ভাষা গণ্য হইয়া ছিল সকল বঙ্গভাষীদিগের জন্য মানভাষা ।
বিংশ শতকের পূর্বার্ধে 'সবুজ পত্র'-কে কেন্দ্র করিয়া
রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরী এবং
সমকালীন কিছু প্রতিভাবান লেখকদিগের চেষ্টায় বাংলা ভাষা তাহার রূপ, রীতি ও শক্তি অর্জন করিয়াছিল ।
বিভক্ত দেশের রাজধানী
ঢাকাকে কেন্দ্র যে সমাজ সৃষ্টি হইলো তাহার ভাষার সঙ্গে কলিকাতার বাংলা ভাষার
ভিন্নতা ক্রমে বাড়িতে থাকিল। ভিন্নতা বাড়িবার কারণ হইল দুই দেশের কিছুটা ধ্বনিগত,
কিছুটা জাতিসত্তা-গত কিছুটা ভূমিজ বৈশিষ্ট্যগতা । ভিন্নতা
থাকিলেও এপার বাংলা-ওপার বাংলার মধ্যে বোধগম্যতার অভাব হয় নাই । দুই বাংলায় অবাধে
দুই প্রকার বাংলার ব্যবহার হইয়া চলিতেছে।
মৌখিক আঞ্চলিক বাংলার
সঙ্গে বাংলার মানভাষার মূল পার্থক্য হইল উচ্চারণে। বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা
আঞ্চলিক ভাষা হইবে, না পশ্চিমবঙ্গের
সাহিত্যের মতো মান ভাষা হইবে, এ প্রশ্ন থাকিয়া
যায় ।
আমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে
যে ভাষা নদীর ন্যায় প্রবহমান । মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত নহে যে ভাষা
তাহা ক্রমাগত যান্ত্রিক কৃত্রিমতায় আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুমুখী হইয়া পরে ।

Very Good
ReplyDelete