Friday, October 9, 2015

পাঠকের জন্য লিখিয়া থাকি, না মনের তাগিদে লিখিয়া থাকি?

 (এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য )


কেন লিখিয়া থাকি?পাঠকের জন্য না নিজ চিত্তের তাড়নার জন্য, ইহা বস্তুত একটি কঠিন প্রশ্ন।

 জর্জ অরওয়েল চার রকম কারণ খুঁজিয়া পাইয়াছিলেন লেখালেখি করিবার। প্রথম দুটিই ছিল নির্ভেজাল আত্মকেন্দ্রিকতা আর সৌন্দর্য-পিপাসা । আর দুটো কারণ হইল ইতিহাস লিখিয়া রাখিবার প্রেরণা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য।

 এই সকল কারণ হইতে ভিন্ন কিন্তু আমার লিখিবার কারণ ।

 সব লেখকই চায় যে তাহার রচনা পাঠকেরা পড়িবে। আমিও তাহার ব্যতিক্রম নহি। কিন্তু আমি লিখিয়া থাকি কারণ আমি জগতকে কিছু বলিতে চাই, কিছু গূঢ় সত্য অভিব্যক্ত করিতে চাই। ইহার পিছনে অন্তরের তাড়না আছে। ইহাতে চিত্তের শান্তি আছে।

Tuesday, October 6, 2015

সিনেমার সাহিত্য, না সাহিত্যের সিনেমা?

(এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য )




বর্তমানে আমরা দুই প্রকারের চলচ্চিত্র দেখিতে পাইয়া থাকি – (ক) নিম্ন মানের ব্যবসাহিক চলচ্চিত্র (খ)উচ্চ মানের চলচ্চিত্র ।

কিছু সাহিত্য রচয়িতারা আছেন যাহারা সিনেমায় চলিবে এমন সব গল্প লিখিয়া চলিতেছেন, এই আশায় যে উহা সিনেমার প্রোডিউসারদিগের কাছে আদরণীয় হইবে ।

ঐসব গল্পের চিত্রায়ন হইতেছে ও নিম্ন মানের ব্যবসাহিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হইতেছে । পরিণামে ভালগার ও গার্বেজ চলচ্চিত্র এবং সাহিত্য দুটোরই উৎপাদন হার ঊর্ধ্বমুখী হইয়াছে।

আবার কিছু লেখকরা লিখেন কারণ তাহাদিগের কিছু বলিবার আছে;  তাহারা জীবনের গূঢ় সত্য প্রকাশের করিবার জন্য আকুলতা অনুভব করিয়া থাকেন ।ইহাদিগের রচনার যে সকল চলচ্চিত্রে চিত্রায়ন হইয়াছে তাহা কালজয়ী হইয়াছে । পথের পাঁচালী, অশনি সংকেত....চোখের বালি ইত্যাদি ।

তাই আমরা বলিতে পারি যে সাহিত্যের-সিনেমা সিনেমার-সাহিত্য হইতে শ্রেয় ।

  ‪#‎ABSU2015‬    #‎KolkataBloggers‬

Monday, October 5, 2015

এপার বাংলা ওপার বাংলা - সাহিত্যের ভাষা কি বদলাইয়া যাইতেছে ?

(এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য ) 




অবিভক্ত ভারতে কলিকাতার শিষ্ট কথ্য ভাষা গণ্য হইয়া ছিল সকল বঙ্গভাষীদিগের জন্য মানভাষা ।

বিংশ শতকের পূর্বার্ধে 'সবুজ পত্র'-কে কেন্দ্র করিয়া রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরী এবং সমকালীন কিছু প্রতিভাবান লেখকদিগের চেষ্টায় বাংলা ভাষা তাহার রূপ, রীতি ও শক্তি অর্জন করিয়াছিল ।

বিভক্ত দেশের রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র যে সমাজ সৃষ্টি হইলো তাহার ভাষার সঙ্গে কলিকাতার বাংলা ভাষার ভিন্নতা ক্রমে বাড়িতে থাকিল। ভিন্নতা বাড়িবার কারণ হইল দুই দেশের কিছুটা ধ্বনিগত, কিছুটা জাতিসত্তা-গত কিছুটা ভূমিজ বৈশিষ্ট্যগতা । ভিন্নতা থাকিলেও এপার বাংলা-ওপার বাংলার মধ্যে বোধগম্যতার অভাব হয় নাই । দুই বাংলায় অবাধে দুই প্রকার বাংলার ব্যবহার হইয়া চলিতেছে। 

মৌখিক আঞ্চলিক বাংলার সঙ্গে বাংলার মানভাষার মূল পার্থক্য হইল উচ্চারণে। বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা আঞ্চলিক ভাষা হইবে, না পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যের মতো মান ভাষা হইবে, এ প্রশ্ন থাকিয়া যায় । 

আমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে যে ভাষা নদীর ন্যায় প্রবহমান । মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত নহে যে ভাষা তাহা ক্রমাগত যান্ত্রিক কৃত্রিমতায় আক্রান্ত হইয়া মৃত্যুমুখী হইয়া পরে ।

তাই আমাদিগের উচিৎ ভাষার প্রবাহকে না রোধ করা ও পরিবর্তন হইতে দেওয়া ।

 #‎KolkataBloggers‬  ‪#‎ABSU2015‬

বিতর্ক এবং সাহিত্য

(এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য )



লবণ বিনা যেমন খাদ্য বিস্বাদ হইয়া থাকে তেমনই সাহিত্য, বিতর্ক-বিহীন বর্ণহীন হইয়া থাকে । মনুষ্যগণ স্বভাবগত ভাবে বিতর্কিত এবং নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকর্ষিত হইয়া থাকে। মনুষ্যগণের আদি পুরুষ বিধাতা দ্বারা নিষিদ্ধ আপেল ভক্ষণ করিবার জন্য স্বর্গ হইতে বিতাড়িত হইয়া ছিল । 

বিশ্বের সেরা সাহিত্যের মধ্যে অধিকাংশই বিতর্কিত । বঙ্কিম-চন্দ্র হইতে হাংরি জেনারেশনের সাহিত্যিকগণ সকলেই তাহাদিগের নিজ-নিজ কালে বিতর্কিত হইয়া ছিলেন । টেকচাঁদ ঠাকুরছদ্মনামে রচিত আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস। ইহাতে তিনি আরবি-ফারসি-হিন্দুস্থানি মিশ্রিত সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ব্যবহার করিয়া বিতর্কিত হইয়া ছিলেন ।

হাংরি আন্দোলন বাংলা ভাষায় যৌন চিত্রকল্প, অশ্লীল শব্দ,  নিচতলার অভিব্যক্তি যথেচ্ছ প্রয়োগের সূত্রপাত করিয়া বিতর্কিত হইয়া ছিল। পাঁচের দশক পর্যন্ত পাঠ-বস্তুতে ইহা নিষিদ্ধ ছিল । তাঁদের অনুকরণে পরবর্তীকালে বহু প্রতিষ্ঠান-বিরোধী লেখক আসিয়াছে । 

হাংরি আন্দোলনকারীদের কার্যকলাপে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করিতে বাধ্য হইয়াছিল ।১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইনডিয়ান পিনাল কোডের ১২০বি, ২৯২ এবং ২৯৪ ধারায় ১১ জন হাংরি আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হইয়াছিল । ইহাদিগের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হইয়াছিল এবং কলিকাতার ব্যাংকশাল কোর্টে তোলা হইয়াছিল ।

বিদেশে সলমান রুশদি খ্যাতি প্রাপ্ত করিয়া ছিলেন তাহার রচিত পুস্তক বিতর্কিত এবং নিষিদ্ধ হইবার জন্য 

সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের তসলিমা নাসরিনের রচনার উৎকর্ষতা  সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেও লেখিকার পুস্তক বিক্রয় বিতর্কের জন্য হইয়া থাকে। তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইয়াছিল। আমার মেয়েবেলা নামক তাঁর প্রথম আত্মজীবনীমুলক গ্রন্থে ইসলাম প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হইয়াছিল। এই গ্রন্থ ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের রোষানলে পড়িলে তাহাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হইয়াছিল।

এই সকল উদাহরণ হইতে আমরা সিদ্ধান্তে আসিতে পারি যে বিতর্ক ব্যতীত সাহিত্য জনপ্রিয় হইবে না ।


 ‪#‎ABSU2015‬       #‎KolkataBloggers‬