(এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে কলকাতা ব্লগারস দ্বারা আয়োজিত ব্লগিং প্রতিযোগিতার জন্য )
লবণ বিনা যেমন খাদ্য
বিস্বাদ হইয়া থাকে তেমনই সাহিত্য, বিতর্ক-বিহীন
বর্ণহীন হইয়া থাকে । মনুষ্যগণ স্বভাবগত ভাবে বিতর্কিত এবং নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি
আকর্ষিত হইয়া থাকে। মনুষ্যগণের আদি পুরুষ বিধাতা দ্বারা নিষিদ্ধ আপেল ভক্ষণ করিবার
জন্য স্বর্গ হইতে বিতাড়িত হইয়া ছিল ।
বিশ্বের সেরা সাহিত্যের
মধ্যে অধিকাংশই বিতর্কিত । বঙ্কিম-চন্দ্র হইতে হাংরি জেনারেশনের সাহিত্যিকগণ সকলেই
তাহাদিগের নিজ-নিজ কালে বিতর্কিত হইয়া ছিলেন । ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে রচিত আলালের
ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস। ইহাতে তিনি আরবি-ফারসি-হিন্দুস্থানি
মিশ্রিত সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ব্যবহার করিয়া বিতর্কিত হইয়া ছিলেন ।
হাংরি আন্দোলন বাংলা
ভাষায় যৌন চিত্রকল্প, অশ্লীল শব্দ, নিচতলার
অভিব্যক্তি যথেচ্ছ প্রয়োগের সূত্রপাত করিয়া বিতর্কিত হইয়া ছিল। পাঁচের দশক
পর্যন্ত পাঠ-বস্তুতে ইহা নিষিদ্ধ ছিল । তাঁদের অনুকরণে পরবর্তীকালে বহু
প্রতিষ্ঠান-বিরোধী লেখক আসিয়াছে ।
হাংরি
আন্দোলনকারীদের কার্যকলাপে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করিতে বাধ্য হইয়াছিল ।১৯৬৪ সালের
সেপ্টেম্বরে ইনডিয়ান পিনাল কোডের ১২০বি, ২৯২ এবং ২৯৪
ধারায় ১১ জন হাংরি আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হইয়াছিল । ইহাদিগের
মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হইয়াছিল এবং কলিকাতার ব্যাংকশাল কোর্টে তোলা হইয়াছিল
।
বিদেশে সলমান রুশদি
খ্যাতি প্রাপ্ত করিয়া ছিলেন তাহার রচিত পুস্তক বিতর্কিত এবং নিষিদ্ধ হইবার
জন্য ।
সাহিত্যিক সুনীল
গঙ্গোপাধ্যায়ের তসলিমা নাসরিনের রচনার উৎকর্ষতা
সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেও লেখিকার পুস্তক বিক্রয় বিতর্কের জন্য হইয়া থাকে।
তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা
নিষিদ্ধ ঘোষিত হইয়াছিল। আমার মেয়েবেলা নামক তাঁর প্রথম আত্মজীবনীমুলক গ্রন্থে
ইসলাম প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক
নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হইয়াছিল। এই গ্রন্থ ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীদের
রোষানলে পড়িলে তাহাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হইয়াছিল।
এই সকল উদাহরণ হইতে আমরা
সিদ্ধান্তে আসিতে পারি যে বিতর্ক ব্যতীত সাহিত্য জনপ্রিয় হইবে না ।
#ABSU2015 #KolkataBloggers
#ABSU2015 #KolkataBloggers


It is True
ReplyDeleteVery Nice
ReplyDeletegreat
ReplyDeletegood
ReplyDelete